বিজ্ঞান শিখি সহজ কথায় Learn science in simple words
Learn science in simple wordsবিজ্ঞান শিখি সহজ কথায়
بِسۡمِ ٱللهِ ٱلرَّحۡمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِِ ◯ বিজ্ঞান শিখি সহজ কথায় -মুহাম্মাদ শেখ রমজান হোসেন বিজ্ঞান কি? ল্যাটিন শব্দ “সায়েনটিয়া(scientia) থেকে ইংরেজি “সায়েন্ “ শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে “জ্ঞান” (Knowledge) । বাংলা ভাষায “বিজ্ঞান” শব্দটির “অর্থ বিশেষ জ্ঞান।“[সূত্রঃ ১) মাধ্যমিক বিজ্ঞান নবম ও দশম শ্রেণি, প্রকাশক জাতীয় ও টেক্সটবুক বোর্ড, ঢাকা, বাংলাদেশ ২) https://bn.wikipedia.org/wiki/ বিজ্ঞানী, বিজ্ঞানবিদ কিংবা বৈজ্ঞানিক কারা? ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার ফলে কোন বিষয়ে প্রাপ্ত ব্যাপক ও বিশেষ জ্ঞানের সাথে জড়িত ব্যক্তিবিজ্ঞানী, বিজ্ঞানবিদ কিংবা বৈজ্ঞানিক নামে পরিচিত হয়ে থাকেন। বিজ্ঞানীরা বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করে প্রাকৃতিক নানা মৌলিক বিধি ও সাধারণ সত্য আবিষ্কারের চেষ্টা করেন।[modern science is a discovery as well as an invention. It was a discovery that nature generally acts regularly enough to be described by laws and even by mathematics; and required invention to devise the techniques, abstractions, apparatus, and organization for exhibiting the regularities and securing their law-like descriptions." —p.vii, J. L. Heilbron, (2003, editor-in-chief) The Oxford Companion to the History of Modern Science New York: Oxford University Press আইএসবিএন ০-১৯-৫১১২২৯-৬] বিজ্ঞান কি এবং কেন?
Science is a systematic initiative that builds and organizes specialized knowledge in the form of theoretical formulas in the form of nature-based experiments, surveys, observations and reviewable interpretations of the universe, including the Earth.
অর্থাৎ বিজ্ঞান এমন একটি পদ্ধতিগত উদ্যোগ- যা পৃথিবীসহ মহাবিশ্ব সম্পর্কে প্রকৃতিভিত্তিক পরীক্ষা নিরীক্ষা, সমীক্ষা, পর্যবেক্ষণ এবং পর্যালোচনাযোগ্য, অনুসিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত ইত্যাদির তাত্ত্বিক সূত্রাকারে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সংক্রান্ত বিশেষ জ্ঞান তৈরি এবং সংগঠিত করে তোলে।
“বিজ্ঞান” শব্দটি ইংরেজি “Science” শব্দের বঙ্গানুবাদ। Science শব্দটির বুৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ “Scientia” থেকে, যার অর্থ জ্ঞান। বাংলায় বিজ্ঞান শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় বি(শেষ)+জ্ঞান=বিজ্ঞাবস্তুত: ভৌত বিশ্বের যা কিছু পর্যবেক্ষণযোগ্য, পরীক্ষণযোগ্য ও যাচাইযোগ্য, তার সুশৃঙ্খল, নিয়মতান্ত্রিক গবেষণালব্ধ জ্ঞানই হচ্ছে বিজ্ঞান।
আধুনিক বিজ্ঞানকে সাধারণত তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়: ১. প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, যা প্রাকৃতিক ঘটনাবলি ব্যাখ্যা প্রদান করে। ২. সামাজিক বিজ্ঞান , যা মানবিক আচরণ ও সমাজের অধ্যয়ন করে। ৩. সাধারণ/বিধিবদ্ধ বিজ্ঞান যা বিজ্ঞানের আদি মৌলিক বিষয় যেমন যুক্তি, গণিত ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে। বর্তমানে স্বীকৃত কোন বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে বাস্তবিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে তাকে ফলিত বিজ্ঞান বা প্রায়োগিগ বিজ্ঞান বলে। যেমন প্রকৌশলবিদ্যা এবং চিকিৎসাশাস্ত্র ।
জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়নসহ এ ধরনের সকল বিজ্ঞান প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে মানুষের আচার-ব্যবহার এবং সমাজ নিয়ে যে বিজ্ঞান তা সমাজ বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া, এনসাইক্লোপিডিয়া)
বিজ্ঞানের শর্তাবলীঃ কোন বিষয় বিজ্ঞানের আওতাভুক্ত হতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ট সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে।
বিজ্ঞানী কারা?
জড়-প্রাণী নির্বিশেষে প্রকৃতির ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার ফলে কোন বিষয়ে প্রাপ্ত ব্যাপক ও বিশেষ জ্ঞানের সাথে জড়িত ব্যক্তি বিজ্ঞান, বিজ্ঞানবিদ কিংবা বৈজ্ঞানিক নামে পরিচিত হয়ে থাকেন।
বিজ্ঞানীরা বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে জ্ঞান অর্জন করেন এবং প্রকৃতি ও সমাজের নানা মৌলিক বিধি ও সাধারণ সত্য আবিষ্কারের চেষ্টা করেন।
বিজ্ঞানী হওয়ার শর্তাবলীঃ
যে গবেষকই পরীক্ষণটি করুন না কেন ফলাফল একই হতে হবে। অর্থাৎ ব্যক্তি চেতনা অনুযায়ী বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষণের ফলাফল কখনও পরিবর্তিত হতে পারে না।
গবেষণা কী এবং কীভাবে?
কোনো বিষয়ের সত্য, বাস্তবতা অনুভব, অনুধাবন করার নিরন্তন পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা-সমীক্ষা পরিচালনার নাম গবেষণা। গবেষণা ব্যক্তিগত কিংব সমষ্টীগত উভয় প্রকারে করা যেতে পারে।
আবিজ্ঞান এক বা একাধিক বিজ্ঞানীর গবেষণার উপর নির্ভর করে। গবেষণাগুলো সাধারণত বিজ্ঞানীদের দ্বারা শিক্ষাক্ষেত্রে এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং কোম্পানিভিত্তিক উদ্যোগে করা হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণার বাস্তবিক প্রভাব বৈজ্ঞানিক নীতি গ্রহনে বাধ্য করেছে। বৈজ্ঞানিক নীতি দ্বারা বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনসার্থে ব্যবহৃত পন্য, স্বাস্থ্যসেবা, জন কাঠামো, পরিবেশের সুরক্ষা এবং অস্ত্র তৈরির মত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতে নীতিমালা অনুসরন করানো হয়।
গণিতকে অনেকেই আলাদা একটি শ্রেণি হিসেবে দেখেন। অর্থাৎ তাদের মতে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান আর গণিত এই তিনটি শ্রেণি মিলে বিজ্ঞান। ঐ দৃষ্টিকোণে গণিত হলো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞান আর প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞান হলো পরীক্ষণমূলক বিজ্ঞান।
গবেষণার গুরুত্ব
গবেষণা (Research) হল মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়া এবং নতুন কিছু আবিষ্কারের নেশায় বিজ্ঞানীদের কার্যাবলী। যিনি গবেষণা করেন বা গবেষণা কর্মের সাথে জড়িত, তিনি গবেষক বা গবেষণাকারী (Researcher) নামে পরিচিতসুনির্দিষ্ট প্রজেক্ট (প্রকল্প) বা উদ্দেশ্যের আওতায় প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক তত্ব, তথ্য, উপাত্ত এবং আনুষঙ্গিক বৈজ্ঞানিক সাজ-সরন্জাম বা প্রযুক্তি সংগ্রহ করতঃ এতদ্বিষয়ে নিরলস পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সমীক্ষা, পর্যালোচনা, পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিবিড় তথ্য বিশ্লেষণ ও সূত্র উদ্ভাবন করতঃ উদ্ভাবিত সূত্রমতে গবেষণা সম্পকির্ত গৃহীত অনুসিদ্ধান্ত, ও সিদ্ধান্ত এবং চূড়ান্ত ফলাফল গ্রহণ উপস্থাপন এবং প্রাসঙ্গিক আলোচনা সন্নিবেশিত করা হয়। গবেষণার প্রধান ধাপসমূহ হচ● প্রাসঙ্গিক গবেষণা ও তথ্য পর্যালোচনা
●গবেষণার সমস্যা নির্দিষ্টকরণ
● অনুমিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও গবেষণার প্রশ্ন নির্দিষ্টকরণ
● তথ্যসংগ্রহ, বিশ্লেষণ
● প্রাথমিক ও চূড়ান্ত গবেষণা প্রতিবেদন তৈরিকরণ। প্রযুক্তির সংজ্ঞা
Technology is the sum of any techniques, skills, methods, and processes used in the production of goods or services or in the accomplishment of objectives, such as scientific investigation. Wikipedia
বিজ্ঞানের আবিষ্কারকে মানুষের প্রায়োগিক কাজে লাগানোর উপায়কে প্রযুক্তি বলে। (https://ansbd.org/15317/)
প্রযুক্তি হল জ্ঞান, যন্ত্র এবং তন্ত্রের ব্যবহার কৌশল যা আমরা আমাদের জীবন সহজ করার স্বার্থে ব্যবহার করছি।প্রযুক্তির সংজ্ঞায় বলা যায়, "প্রযুক্তি হল কিছু প্রায়োগিক কৌশল যা মানুষ তার প্রতিবেশের উন্নয়নকার্যে ব্যবহার করে।" যেকোন যন্ত্র এবং প্রাকৃতিক উপাদান সম্বন্ধে জ্ঞান এবং তা দক্ষভাবে ব্যবহারের ক্ষমতারকেও প্রযুক্তি বলা হয়।
► ‘ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করে সমস্ত মেশিন, সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি এবং যোগাযোগ ও পরিবহনের ডিভাইস ও দক্ষতা যা আমরা তৈরি এবং ব্যবহার করি (১৯৩৭ সালে মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী রেড বাইন প্রদত্ত প্রযুক্তির সংজ্ঞা)।
► ‘প্রযুক্তি হল শিল্প ও প্রকৌশল ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের ব্যবহার যা প্রয়োজনীয় জিনিস আবিষ্কার ও সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হয়’ এবং ‘মেশিন বা সরঞ্জাম হল প্রযুক্তির তৈরি ফলাফল’(মেরিয়ামিয়াম-ওয়েস্টার লার্নার্স ডিকশন)।
► এটি হলো আমরা চারপাশের কাজ কিভাবে করি তার কৌশল (উরসুলা ফ্রাঙ্কলিন কর্তৃক ১৯৮৯ সালে ‘রিয়েল ওয়ার্ল্ড অফ টেকনোলজি’ লেকচারে প্রদত্ত সংজ্ঞা)।
► ‘প্রযুক্তি এমন একটি পদ্ধতি- যা মানুষের উদ্দেশ্য পূরণ করে’ (ডব্লিউ ব্রায়ান আর্থার)।
‘প্রযুক্তি’ শব্দটির ব্যবহার গত ২০০ বছরে তাৎপর্যপূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর আগে এই শব্দটি কখনো কখনো ম্যাসাচুসেট্স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এর কৌশলগত বিদ্যাকে বোঝানো হতো ।
‘প্রযুক্তি’ শব্দটি প্রাধান্য পায় ইউরোপ কেন্দ্রিক দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবে পর। বস্তুতঃ এই শব্দটির অর্থ বিংশ শতাব্দীতে পরিবর্তিত হয় যখন থর্স্টেইন ভেবলেন থেকে শুরু করে আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানীরা জার্মান Technik থেকে ‘প্রযুক্তি’ এর অনুবাদ করা শুরু করেন। জার্মান ও ইউরোপীয় ভাষায় technik এবং technologie দুটি শব্দ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে কিন্তু ইংরেজিতে এ দুটিকেই একই অর্থে ‘Technology’ তে অনুবাদ করা হয়েছেবিস্তৃত পরিসরে ব্যাপক অর্থে প্রযুক্তি হল যন্ত্র ও সরঞ্জাম যা বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি সুদূরপ্রসারি ধারণা যা সরল যন্ত্র যেমন চামচ থেকে শুরু করে অনেক জটিল যন্ত্র যেমন মহাশূন্য স্টেশন ইত্যাদি-কে অন্তর্ভুক্ত করে। যন্ত্র ও সরঞ্জাম কেবল বস্তুই হতে হবে তা নয় যেমন কম্পিউটার সফটওয়্যার ও ব্যবসার পদ্ধতি এগুলো প্রযুক্তির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।
আধুনিক বিজ্ঞানকে সাধারণত তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়: ১) প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, যা প্রাকৃতিক ঘটনা (জীববিজ্ঞান সহ), ২) সামাজিক বিজ্ঞান, যা মানবিক আচরণ ও সমাজের অধ্যয়ন করে এবং ৩) সাধারণ বিজ্ঞান। নিম্নোক্ত ছক দ্বারা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মধ্যকার সর্ম্পক তুলে ধরা হল:
বিজ্ঞানের প্রকারভেদঃ
পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান,
ভূবিজ্ঞান, এবং মহাকাশ বিজ্ঞান
রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, মানবীয় ভূগোল, এবং মনোবিজ্ঞান
যুক্তি, গণিত, এবং পরিসংখ্যান
কৃষি বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, এবং উপাদান বিজ্ঞান
বিপণন, আইন, শিক্ষাবিজ্ঞান, এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন
প্রযুক্তি কি এবং কেন?
প্রযুক্তির সংজ্ঞা
প্রযুক্তি হল যান্ত্রিক কৌশল, দক্ষতা, পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার সমষ্টি যা পণ্য ও সেবা উৎপাদনে অথবা উদ্দেশ্য সাধনে ব্যবহৃত হয়। প্রযুক্তির সরলতম রূপ হল মৌলিক সরঞ্জামের বিকাশ ও ব্যবহার।প্রাগৈতিহাসিক কালে আগুন নিয়ন্ত্রণ,পরবর্তী নব্যপ্রস্তর যুগীয় কৃষি বিপ্ল তথা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি সরঞ্জাম, দ্রুত যাতায়াতের লক্ষ্যে গরু, ঘোড়ার বাহনে চাকার আবিষ্কার প্রযুক্তির এই ধাপ পেরিয়ে রিবেশে পরিভ্রমণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করেছে। কৃষি উন্নয়নে কৌশল যন্ত্র আবিষ্কার ও ক্রমে ক্রছাপাখানা, টেলিফোন, মোবাইল, কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের আবিষ্কার যোগাযোগ ক্ষেত্রে মানুষের শারীরিক বাঁধাকে দূর করেছে এবং মানুষকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে মুক্তভাবে যোগাযোগে সক্ষম করেছে।
প্রযুক্তি জগতে বলবিজ্ঞান
বলবিজ্ঞান প্রযুক্তির জগতেও একটি মৌলিক ভূমিকা পালন করে থাকে। এটি ভৌত জ্ঞানসমূহকে মানুষের কাজে লাগানোর উপযোগী করে তৈরি করে থাকে। এ লক্ষ্যে প্রবর্তিত হয়েছে প্রকৌশল বা ফলিত বলবিজ্ঞা যা যন্ত্র প্রকৌশল, মহাকাশ প্রকৌশল (aerospace), পুর প্রকৌশল, জৈব বলবিজ্ঞান, structural engineering, materials engineering, biomedical engineering ইত্যাদি নামে অভিহিত এবং ব্যবহৃত।
প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে দার্শনিকরা যুক্তি তর্কের উর্ধ্বে উঠে এখনো একমত নয় যে, প্রযুক্তি মানুষের সার্বিক অবস্থার আদৌ উন্নতি করছে নাকি অবনতি ঘটাচ্ছে । নব্য-লুডিজম, অ্যানার্কো-আদিমবাদী আন্দোলন প্রযুক্তির বিস্তারকে সমালোচনা করে যুক্তি দেন যে, এটি মানুষের ক্ষতি করে। অন্যদিকে টেকনো-প্রগতিবাদী মতামতের সমর্থকরা প্রযুক্তিকে সমাজের পক্ষে উপকারী মনে করেন। সি.আই.আর.এন.এন (CIRNN) মনে করে, প্রযুক্তি নিয়ে বিভক্তির অবকাশ নেই বরং প্রযুক্তিতে সুফল যেমন রয়েছে তেমনি কিছু কুফলও রয়েছে। কুফল এড়িয়ে প্রযুক্তির সুফল ভোগ করা বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। সি.আই.আর.এন.এন.আরও মনে করে যে, অনুরূপভাবে নিউটনীয় ক্ল্যাসিকাল বল বিজ্ঞানের সাথে কোয়ান্টাম বল বিদ্যার নিয়ে দ্বন্দ্বেরও অবকাশ নেই বরং মধ্যপন্থা অনুসরণ করে পৃথিবীতে ব্ল্যাকহোল কিংবা সূর্যের মত অআকর্ষন বলের অবকাশ না থাকায় অআলো সরল রেখায় গমন হেতু নিউটনীয় সূত্র প্রযোজ্য ,পক্ষান্তরে মহাকাশে অবস্থিত ব্ল্যাকহোল কিংবা সূর্যের কোল ঘেঁষে দূর নক্ষত্রের আলো কিছুটা বেঁকে পৃথিবীতে আসলে তাতে যাওয়ার আইনস্টাইনীয় জেনারেল রিলিটিভিটি থিওরি প্রযোজ্য।
নিউটনীয় বলবিজ্ঞান
বলবিজ্ঞান পদার্থবিজ্ঞানের মূল শাখা যা মানুষের চোখে দৃশ্যমান বৃহৎ জগৎ নিয়ে আলোচনা করে।বলবিজ্ঞান (গ্রিক: Μηχανική, ইংরেজি: Mechanics) (অথবা বলবিজ্ঞান) পদার্থবিজ্ঞানের (Physics) একটি শাখা, যেখানে মহাবিশ্বের ৪ মৌলিক বল যথাঃ ১) মহাকর্ষ, ২) সবল নিউক্লিয়, ৩) দূর্বল নিউক্লিয় এবং ৪) বিদ্যুৎ চৌম্বক প্রযুক্ত হওয়ার ফলে ভৌত বস্তুর সরণ বা অন্যান্য আচরণ এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে।অ্যারিস্টটল বিভিন্ন বস্তু, যেমন: পাথর, বাতাসে নিক্ষেপ করলে কেমন আচরণ করে, তা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে বলবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপনে অবদান রেখেছেন গ্যালিলি ও ইয়োহানেস কেপলার এবং সবশেষে নিউটন বলবিজ্ঞানের মৌলিক তত্ত্বগুলোর অবতারণা করেন। অবশ্য নিউটনের উদ্ভাবিত নীতিগুলোকে নিয়েনিউটনীয় বলবিজ্ঞা নামে একটি পৃথক শাখা গড়ে উঠেছে। যিনি বলবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা এবং গবেষণা করেন, তাঁবলবিজ্ঞানী বলা হয়।নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ নিয়ে চিরায়ত বলবিজ্ঞানর ভিত রচিত হয়:
· নিউটনীয় বলবিজ্ঞান, গতি (সৃতিবিজ্ঞান) এবং বলের (গতিবিজ্ঞান) মৌলিক আলোচনা করে।
· ল্যাগ্রাঞ্জীয় বলবিজ্ঞান: (Lagrangian mechanics) একটি তাত্ত্বিক আচারপ্রিয়তা (formalism)।
· হ্যামিল্টনীয় বলবিজ্ঞান: আরেকটি তাত্ত্বিক আচারপ্রিয়তা।
· জ্যোতির্গতিবিজ্ঞান: নভোযান চালনা।
· শব্দবিজ্ঞান: কঠিন এবং তরলে শব্দের আচরণ।
· স্থিতিবিজ্ঞান: যান্ত্রিক সাম্যাবস্থা।
· প্রবাহী বলবিজ্ঞান, তরল পদার্থের গতি।
· Continuum mechanics, mechanics of continua (both solid and fluid)
· তরল স্থিতিবিজ্ঞান (hydraulics): সাম্যাবস্থায় তরল।
· অপেক্ষবাদিক অথবা আইনস্টাইন বলবিজ্ঞান।
কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান· কণা পদার্থবিজ্ঞানউচ্চশক্তির বিকিরণ (Highest Energetic Radiation) ফিজিক্স (Physics) পদার্থ বিজ্ঞানে (Material Science) সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ায় ফিজিক্স মহাবিশ্বের উদ্ভবের পেছনে কেবল বস্তু তাত্ত্বিক সূত্র বা ক্লু আবিস্কারে মশগুল। যার ফলে ফিজিক্স বিগ ব্যাং নামক অক্টোপাসে জালে আটকে পড়ে যদিও আধুনিক কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড থিওরির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বিগ ব্যাং তথা মহাবিশ্বের উদ্ভব পূর্ব অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন যার মহাবিস্ফোরণে আকাশ-মহাকাশ এবং উপগ্রহ, গ্রহ, তারকা, গ্যালাক্সি ইত্যাদির উদ্ভব। এই পূর্বাবস্থাটির নাম উচ্চশক্তির বিকিরণ (Highest Energetic Radiation ) অর্থাৎ Highest Energetic Radiation-কে বলা যেতে পারে আকাশ-মহাকাশ এবং উপগ্রহ, গ্রহ, তারকা, গ্যালাক্সির বীজ (Seed) বা মূল (Root)। এতে বল কেন্দ্রিক মহাবিশ্বের ৪ মৌলিক বলও একত্রে নিহিত ছিল যাকে এক করতে আলবার্ট অআইনস্টাইন জীবনের অন্ততঃ চার চারটি দশক চেষ্টা করেও বিফল অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। · াবিশ্বের জন্মের ইতিহাস
সূচনা: বলা হয়ে থাকে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা সেদিনের সে ক্ষণটিতে শুরু যে দিনের যে ক্ষণে মানব মনে সর্বপ্রথম সত্যকে জানার আগ্রহ জেগেছিল। এই সত্য জানার ধারাবাহিকতায় সাধারণ মানব মনে প্রশ্ন জেগেছিল: তারা ভরা, সূর্য দীপ্ত আকাশ মহাকাশ এবং পৃথিবী কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল, এই আকাশ পৃথিবীর আগে কি অথবা কে ছিলেন? উপরোক্ত প্রশ্নগুলি ঘিরেই পরবর্তিতে জন্ম নেয় বিশ্বসৃষ্টি তত্ত্ব (Cosmology)।
বিশ্বসৃষ্টি তত্ত্ব (কসমোলোজি) অনুসারে স্থান ও সময় এবং এদের অন্তর্ভুক্ত পৃথিবী এবং অন্যান্য সমস্ত গ্রহ , সূর্য ও অন্যান্য তারা ও নক্ষত্র জ্যোতির্বলয় স্থান ও এদের অন্তর্বর্তীস্থ গুপ্ত পদার্থ , ল্যামডা-সিডিএম নকশা ও শূণ্যস্থান (মহাকাশ) - যেগুলো এখনও তাত্ত্বিকভাবে অভিজ্ঞাত কিন্তু সরাসরি পর্যবেক্ষিত নয় - এমন সবপদার্থ ও শক্তি মিলে যে জগৎ তাকেই বলা হচ্ছে বিশ্বসৃষ্টি তত্ত্ব (কসমোলোজি)। بِسْمِ ٱللّٰهِ ٱلرَّحْمٰنِ ٱلرَّحِيمِ স্ট্রিং বুঝি সহজ কথায় উদাহরণস্বরূপ, কেউ কাউকে ভাত খেতে দেখলে নিউটনীয় বল বিজ্ঞান অনুসারে সবাই বলবেনঃ উনি “ভাত” খাচ্ছেন। কেউ রুটি খেতে দেখলে বলবেনঃ তিনি “রুটি”ই খাচ্ছেন। যদি আইজাক নিউটন বেঁচে থাকতেন তাহলে এসব বাতচিৎ শুনে বরং তিনি খুশীই হতেন বক্তার এই কথোপকথনে। কারণ, চিরায়ত (ক্ল্যাসিক্যাল)বল বিদ্যা অনুসারে প্রতিটি বস্তুই আলাদা, আলাদা।অবশ্য জার্মান বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন বেঁচে থাকলে বলতেন, যে যা-ই খেতে দেখছেন আসলে সবই আপেক্ষিক, বাস্তব নয়।বাস্তব হচ্ছে কোনো বস্তুই আলাদা, আলাদা নয় সবই একসূত্রে গাঁথা । ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক আইনস্টাইনের এই আপেক্ষিকতার ব্যাখ্যা দিয়ে বলতেন, সবাই আসলে “কোয়ান্টা” খাচ্ছেন। গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস বলতে “অ্যাটম”, প্লেটো কিংবা জাবির ইবনে হাইয়ান কিংবা দ্রিমিত্রি মেন্ডেলিফ পর্যায় (Periodical Table)।পিটার হিগসের মতে, “বোসন কণা”, মারে গেলমানের ভাষায় “কোয়ার্ক”, আর্ণেস্ট রাদার ফোর্ডের দৃষ্টিতে পরমাণুর “নিউক্লিয়াস” তথা “প্রোটন”, স্যার জেমস চ্যাডউইকের ভাষায় “নিউট্রন”, স্যার জেমস চ্যাডউইকের তত্ত্বে “নিউট্রন”, জে,জে, থমসনের কথায় “ইলেকট্রোন” আর গ্যাব্রিয়েল ভেনেজিয়ানের ভাষায় “স্ট্রিং” [String অর্থাৎ সুতা কিংবা তার (Wire)] ও তার কম্পন vibration) খাচ্ছেন মাত্র। সর্বশেষ প্রশ্ন হতে পারেঃ কম্পনের উৎসমূল কী, কোথায়? অআরও সহজ কথায়, অআমরা যে ভাত খাই, যুক্তি বিজ্ঞানমতে আসলে অআমরা ধান খাচ্ছি। কারণ চাল-কে সিদ্ধ করলে যেহেতু ভাত হয় এবং চাল যেহেতু ধান থেকে হয়, সেহেতু ভাত-ই ধান, চাল-ই ধান।
উল্লেখ্য, কোয়ান্টাম বল বিজ্ঞানমতে, প্রত্যেক বস্তু-পদার্থ আলাদা আলাদা নয় বরং একসূত্রে গাঁথা। স্ট্রিং তত্ত্ব মতে সূত্রটি হচ্ছে স্ট্রিং ও তার কম্পন। পক্ষান্তরে CIRNN এর মতে, সূত্রটি হচ্ছে শক্তি (Energy)। যা খাওয়া হচ্ছে আসলে তার সবই “শক্তি” (Energy) আর “শক্তি” (Energy) ছাড়া কিছুই নয়।
আইনস্টাইন মনে করেন, সব ধরণের শক্তিই হলো মহাকর্ষের উৎস। কারণ সব শক্তিরই একটা কার্যকর ভর রয়েছে। (বিজ্ঞানচিন্তা, জানুয়ারি, ২০২১,পৃষ্ঠা ৬৩)।আইনস্টাইনের ভরশক্তির সমীকরণ
বস্তু এবং শক্তিঃ জমে থাকা শক্তি জমাটবদ্ধ বস্তুর মতই (আইনস্টাইন)।
“ভর এবং শক্তিঃ সব শক্তিরই একটা কার্যকর ভর রয়েছে” (আইনস্টাইন)। (বিজ্ঞানচিন্তা, জানুয়ারি, ২০২১,পৃষ্ঠা ৬৩)“ভর ভেক বদল করে শক্তিতে রূপান্তিরত হয়” (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০,পৃষ্ঠা ২০)।“মহাকর্ষীয় ভর বলে আমরা যেটাকে জানি, যার কারণে আমাদের ভারী ও হালকা অনুভূতি হয়, সেটা আসলে ওজন (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০, বর্ষ ৪, সংখ্যা ০৬, পৃষ্ঠা ২০)।
মহাকর্ষ বল শুন্য কোনো স্থানের কল্পনা করাও অসম্ভব (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০,পৃষ্ঠা ২১)।
“মহাকর্ষ বলের প্রাবল্য যেখানে কম, সেখানে আপনার ওজন কম হবে, নিজেকে তত হালকা মনে করবেন আপনি। আর মহাকর্ষ প্রাবল্য খুব বেশি যেখানে, সেখান থেকে পা তুলতেই আপনি হিমশিম খাবেন” (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০,পৃষ্ঠা ২১)।
“পরমাণু তৈরি হয় ইলেকট্রন আর প্রোটন দিয়ে। অন্য দিকে প্রোটন-নিউট্রন তৈরি হয় কোয়ার্ক দিয়ে” (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০, বর্ষ ৪, সংখ্যা ০৬, পৃষ্ঠা ২১)“সব মৌলিক পদার্থের পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংখ্যা এক নয়, প্রতিটির আলাদা” (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০, বর্ষ ৪, সংখ্যা ০৬, পৃষ্ঠা ২১)।
“তাই এক মৌলের পরমাণুর সঙ্গে আরেক মৌলের পরমাণুর ভরের পার্থক্য দেখা দেবে এটা নিশ্চিত” (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০, বর্ষ ৪, সংখ্যা ০৬, পৃষ্ঠা ২১)।
“পরমাণুকে ভাঙলে শেষ পর্যন্ত যা পাওয়া যাবে তা হচ্ছে কোয়ার্ক আর ইলেকট্রন” (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০, বর্ষ ৪, সংখ্যা ০৬, পৃষ্ঠা ২১)।
কোয়ার্ক আর ইলেকট্রন আসলো কোত্থেকে?
“পরমাণু জগতে এত এত কণা, কিন্তু এসব কণা কি দিয়ে তৈরি কেউ জানে না” (বিজ্ঞানচিন্তা)।
►“এ পর্যন্ত মহাবিশ্বের মূল কণিকার সংখ্যা হলো ১৬। এগুলোর মধ্যে সব ধরণের কোয়ার্ক-ইলেকট্রনসহ ১২টিকে বলে ফার্মিয়ান শ্রেণীর কণা। অআলোর ভরশুন্য ফোটন কণাসহ বাকী ৪টিকে বলে বোসন শ্রেণীর কণা। কিন্তু স্ট্রিং তত্ত্ব অনুযায়ী এই ১৬টি কণাই শেষ কথা নয়, বস্তুর অআরও ক্ষুদ্রতম অস্তিত্ব রয়েছে, সেটা হলো স্ট্রিং তন্তু। স্ট্রিংয়ের ঘূর্ণনেই বস্তুর কণার সৃষ্টি” (বিজ্ঞান চিন্তা)।
►“ধরা যাক, ইলেকট্রন বা কোয়ার্কের কথা। এগুলোকে যদি খুব সূক্ষ্ণভাবে দেখা যেতো, তাহলে দেখতাম, আসলে এগুলো কণা বা বিন্দু নয়, সুতার মতো অতি সূক্ষ্ণ তন্তুর কম্পন। সুতার বিভিন্ন মাত্রার কম্পনের ফলে বিভিন্ন কণার সৃষ্টি। ইলেকট্রনের জন্য তন্তুর (সুতার) কম্পনের মাত্রা এক রকম। কোয়ার্কের জন্য তন্তুর কম্পনমাত্রা আরেক রকম। অন্য ১৪টি কণার জন্য তন্তুর আলাদা কম্পন নির্দিষ্ট আছে। তন্তুর কম্পনের মাত্রাই ঠিক করে দেয় কম্পন থেকে সৃষ্ট কণার ভর, চার্জ, স্পিন কেমন হবে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোই এক ধরণের কণা আরেক ধরণের কণার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে। এ সব বিচিত্র কণা দিয়েই গড়ে উঠেছে আমাদের মহাবিশ্ব। এই বিশ্ব তাই সুতায় বোনা মহাবিশ্ব” (বিজ্ঞান চিন্তা)।
(ইনশা আল্লাহ অসমাপ্ত্)